জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় চাঁদা না দেওয়ায় এক প্রবাসী যুবকের নববিবাহিতা স্ত্রীকে দুই দিন জিম্মি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও কয়েকজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন—মাহমুদপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আবির ইফতেখার, সাংবাদিক এসএম মিলন, সাংবাদিক শাহিনুর রহমান শাহিন এবং বিএনপি নেতা ও মানবাধিকারকর্মী বাবু।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের মহব্বতপুর গ্রামের মোয়াজ্জিমের প্রবাসী ছেলে লিটন মল্লা দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার পর প্রায় এক মাস আগে দেশে ফেরেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলার এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত রবিবার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় স্থানীয় বিএনপি নেতা বাবু, ছাত্রদল সভাপতি আবির ইফতেখার এবং সাংবাদিক শাহিন ও এসএম মিলন তাকে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে রাত ৯টার দিকে তাকে স্থানীয় এক কথিত কাজী ডাবলুর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মারধর ও চাপ প্রয়োগ করে ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় ৫ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে রেজিস্ট্রি করানো হয়।
এ সময় অভিযুক্তরা লিটনের কাছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। তার কাছে থাকা ৩০ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয় এবং বাকি ১ লাখ টাকা না দেওয়ায় নববিবাহিতা স্ত্রী খুশিকে তাদের হেফাজতে দুই দিন রাখা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোমবার দুপুরে লিটনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
তবে সোমবার বিকেলে সাংবাদিক শাহিন, এসএম মিলন ও বাবুসহ কয়েকজন ওই তরুণীকে নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
এ বিষয়ে ক্ষেতলাল উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি তার গ্রামের। বিদেশফেরত ওই যুবককে কৌশলে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। পরিবারের সম্মতি ছাড়া ৫ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে দেওয়া এবং পরে টাকা দাবি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।