
সোহেল রানা, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ)
দূর দিগন্ত জুড়ে শুধুই হলুদ আর হলুদ। চোখ যতদূর যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে সরিষার ফুল। সকালের কুয়াশা ভেদ করে সূর্য্যের আলো পড়তেই ঝলমল করে উঠেছে রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষিজমি। প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দয্যের আড়ালেই লুকিয়ে আছে কৃষকের শ্রম, আশা আর সম্ভাবনার গল্প। চলতি মৌসুমে সরিষা চাষে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছে রায়গঞ্জ উপজেলা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ হাজার ৮৯০ হেক্টর, ১১১২০ হেক্টর আবাদি জমিতে প্রায় সরিষা আবাদ হয়েছে বলে ধারণা , যা গত বারের তুলনায় অনেক বেশি। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আবাদ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে এবং ফলনের দিক থেকেও আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সরিষার হলুদ ফুল
শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এনেছে প্রাণচাঞ্চল্য। কম খরচে অধিক লাভ, স্বল্প সময়ে ফসল ঘরে তোলার সুবিধা এবং বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় এ বছর নতুন অনেক কৃষক সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। অনেক জমিতে ধান কাটার পর পরই সরিষা আবাদ করায় জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হয়েছে। রায়গঞ্জের কৃষকরা জানান, উন্নত জাতের বীজ, সময়মতো সার-বালাইনাশক প্রয়োগ এবং নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে এ বছর ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌমাছির গুঞ্জনে সরিষা ক্ষেতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলা। এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সরিষা একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় তেলবীজ ফসল। এবছর কৃষকদের ব্যাপক
সাড়া ও আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলে সরিষা আবাদ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগ থেকে উন্নত বীজ সরবরাহ, মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া বজায় থাকলে এবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’ তিনি আরও বলেন, সরিষা চাষ বৃদ্ধি পাওয়ায় একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে আমদানি-নির্ভর ভোজ্যতেলের ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে রায়গঞ্জ উপজেলা। সরিষার হলুদে মোড়া এই মাঠ শুধু কৃষিপণ্যের উৎপাদন ক্ষেত নয়, এ যেন আত্মনির্ভরতার প্রতীক, কৃষকের স্বপ্নের ক্যানভাস। প্রকৃতি আর পরিশ্রমের মিলনে এবছর রায়গঞ্জ হয়ে উঠেছে তেলবীজ উৎপাদনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
মন্তব্য করুন