জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খানের বিরুদ্ধে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বরাদ্দ দেওয়া চালের একটি অংশ প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ না করে বিক্রির চেষ্টা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, তুলসীগঙ্গা ইউনিয়নে ৮৭৮ জনের জন্য ৮ দশমিক ৭৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। বিতরণের জন্য প্রস্তুত ৮৭৮টি কার্ডের মধ্যে ৭৬৩টি বিভিন্ন ইউপি সদস্য ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে দেওয়া হলেও প্যানেল চেয়ারম্যান আব্দুস শহিদ খান নিজের কাছে ১১৫টি কার্ড রাখেন।
গত শনিবার ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণকালে তিনি ৬৪টি কার্ডের বিপরীতে চাল বিতরণ করেন। বাকি ৫১টি কার্ডের চাল বিতরণ না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার নির্দেশে অবশিষ্ট চাল ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের জিম্মায় রাখা হয় এবং পরদিন প্রকৃত কার্ডধারীদের মাঝে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রবিবার সকালে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কার্যসহকারী সোহেল রানার উপস্থিতিতে ১৭ জন চাল গ্রহণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, চাল গ্রহণকারীদের অনেকেই প্রকৃত কার্ডধারী ছিলেন না। পরে অবশিষ্ট চাল স্থানীয় একটি এতিমখানা মাদ্রাসায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চলে যাওয়ার পর চেয়ারম্যান স্থানীয় এক চাল ব্যবসায়ীর কাছে কয়েক বস্তা চাল বিক্রি করে দেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে বলেও জানা গেছে।
চাল ব্যবসায়ী গোলাম রসুল বলেন, “গরুর খাদ্যের জন্য কয়েকজনের কাছ থেকে কার্ড কিনেছিলাম। সেই চাল নিতে গিয়েছিলাম।”
অভিযুক্ত আব্দুস শহিদ খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যারা শনিবার আসতে পারেননি, তাদের রবিবার চাল দেওয়া হয়েছে। আমি কারও কাছে চাল বিক্রি করিনি।”
কার্যসহকারী সোহেল রানা বলেন, “দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৭ জন চাল নেওয়ার পর আর কেউ না আসায় বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাই। পরে বাকি চাল এতিমখানায় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।”
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, “কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন