মেলার মাঠজুড়ে চলছে ঘোড়ার দৌড়, দরদাম আর ক্রেতাদের ভিড়। পছন্দের ঘোড়া কিনতে ক্রেতাদের মধ্যেও চলছে রীতিমতো প্রতিযোগিতা। ক্রেতা, বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী এই ঘোড়ার মেলা।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে গোপীনাথপুরের শ্রী শ্রী গোপীনাথ জিউ মন্দিরকে কেন্দ্র করে এই মেলার সূচনা হয়। দোলযাত্রা উৎসব উপলক্ষে স্থানীয় জমিদারদের উদ্যোগে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ছোট পরিসরে মেলার আয়োজন শুরু হয়। সময়ের ব্যবধানে তা বিস্তৃত হয়ে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ ঘোড়ার হাট ও গ্রামীণ মেলায় পরিণত হয়েছে।
আয়োজকরা জানান, দোল পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর মাসব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। তবে পশুর হাট বসে প্রথম ১০ দিন। শুক্রবার দোল পূর্ণিমার দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘোড়া ব্যবসায়ীরা তাদের ঘোড়া নিয়ে এসে অবস্থান নিয়েছেন মেলা প্রাঙ্গণে। ঘোড়ার পাশাপাশি এখানে মহিষ, গরু, ভেড়া ও ছাগলেরও বেচাকেনা হচ্ছে।
মেলায় পছন্দের ঘোড়া নির্বাচন করার পর দরদাম ঠিক হলে নির্দিষ্ট একটি মাঠে নিয়ে গিয়ে ঘোড়ার দৌড় দেখানো হয়। ঘোড়ার গতি ও সক্ষমতা যাচাই করেই চূড়ান্ত হয় কেনাবেচা। এবার মেলায় আনা ভারতীয় একটি তাজি ঘোড়ার দাম হাঁকা হয়েছে প্রায় ১১ লাখ টাকা।
গাইবান্ধা থেকে ঘোড়া বিক্রি করতে আসা ব্যবসায়ী হবিবর রহমান বলেন, “আমি একটি ঘোড়ার দাম হাঁকিয়েছি ৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভালো জাতের ঘোড়ার ক্রেতা এখনও আছে।”
জামালপুরের ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি এই মেলায় ঘোড়া নিয়ে আসছেন। এবার তিনি ছোট-বড় মিলিয়ে ২০টি ঘোড়া এনেছেন বিক্রির জন্য।
এদিকে মেলায় সর্বোচ্চ ১১ লাখ টাকা দাম হাঁকা ঘোড়াটির মালিক জামালপুরের জাফর সরদার বলেন, “ঘোড়াটির বয়স পাঁচ বছর। এটি ভুটানের ভুটিয়া জাতের ঘোড়া। দ্রুত দৌড়াতে পারে। আমি নিজেই এর যত্ন নিই।”
ঘোড়সওয়ার ও ব্যবসায়ীরা জানান, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ঘোড়ার দৌড় দেখানোর জন্য বিস্তীর্ণ মাঠের প্রয়োজন হয়। তবে বর্তমানে মেলার জায়গা কিছুটা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ঘোড়া বেচাকেনায় কিছুটা সমস্যাও হচ্ছে।
ঘোড়ার হাট ছাড়াও মেলায় বসেছে বিশাল গ্রামীণ বাজার। শীতলপাটি, কাঠের আসবাবপত্র, বেত ও বাঁশের তৈরি গৃহস্থালি সামগ্রী, মাটির তৈরি পণ্য, কৃষিকাজের সরঞ্জামসহ নানা ধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে এখানে। পাশাপাশি রয়েছে বাহারি খাবারের দোকান। জিলাপি, পিঠা, মিষ্টি, চটপটি, ফুচকা ও হালিমের মতো মুখরোচক খাবারে সরগরম মেলা প্রাঙ্গণ। শিশু-কিশোরদের জন্য রয়েছে নাগরদোলা ও বিভিন্ন বিনোদনের ব্যবস্থা।
আক্কেলপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীন রেজা বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই মেলাটি মাসব্যাপী চললেও এবছর ১৫ দিন চলবে। মেলাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।”
#সুপ্রভাত/রাসেল