ভোরের আলো তখনো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েনি। কুয়াশা ভেজা মাঠ, নরম মাটির গন্ধ আর পাখির ডাক, জয়পুরহাট জেলার কাচাকুল গ্রামের নীরবতা হঠাৎ ভাঙে এক খবরে: ছালামত আলী আর নেই। শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবারের উপর। ঠিক সেই মুহূর্তে অন্য একটি দায়িত্ব নিঃশব্দে শুরু হয় শেষ ঠিকানার আয়োজন।
বাবলু মন্ডলের নেতৃত্বে একদল মানুষ বছরের পর বছর ধরে কবর খোঁড়ার কাজ করছেন নিঃস্বার্থভাবে। তাদের সঙ্গে রয়েছেন গোলাম মোস্তফা, মিলন মন্ডল, কোরমান আলী, খলিলুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, আশরাফ আলীসহ আরও অনেকে।
কারো মৃত্যু সংবাদ এলেই তারা দেরি করেন না। হাতে তুলে নেন ডালি, কোদাল, খুন্তি ও শাবল। দিন হোক বা গভীর রাত সময় তাদের কাছে কোনো বাধা নয়। মাটি কাটার শব্দ শুধুই শ্রমের নয়, এটি যেন জীবনের শেষ অধ্যায়ের সূচনা। প্রতিটি কোদালের আঘাতে মিশে থাকে বিদায়ের ভার, প্রতিটি মুঠো মাটিতে থাকে অশ্রুর প্রতিধ্বনি।
বাবলু মন্ডল বলেন, আমরা প্রায় ২০০টিরও মতো কবর খুঁড়েছি। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেই শান্তি পাই।

কবর খোঁড়া শুধু শারীরিক শ্রম নয়, এটি এক গভীর মানবিক কাজ। শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, তাদের দুঃসময়ে দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া এ যেন এক নীরব ইবাদত। দিন-রাত, ঝড়-বৃষ্টি বা শীত, কিছুই তাদের থামাতে পারে না।
কাচাকুল গ্রামের এই মানুষগুলো প্রমাণ করেছেনমানবতা বড় কোনো শব্দ নয়, এটি ছোট ছোট কাজের মধ্যেই বেঁচে থাকে।
মন্তব্য করুন