জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল গ্রামের একটি মসজিদে খাদেম নিয়োগ ও সরকারি ভাতার তালিকা প্রস্তুতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সরকারিভাবে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতা প্রদানের জন্য তথ্য সংগ্রহ করছে কালাই উপজেলা ইসলামি ফাউন্ডেশন । তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের শত শত মসজিদের মধ্যে আপাতত মাত্র একটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম ভাতা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ কমিটির মধ্যে প্রতিযোগিতা ও মতবিরোধ দেখা দিচ্ছে।
এ অবস্থায় কালাই উপজেলার পশ্চিম কুজাইল জামে মসজিদে খাদেম নিয়োগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই মসজিদে একটি ধর্ষণ মামলার আসামিকে খাদেম হিসেবে নিয়োগ দেয় এক পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে গ্রামের অন্য একটি পক্ষ আপত্তি তোলে। তারা বলেন, এমন অভিযোগে অভিযুক্ত কাউকে মসজিদের দায়িত্বে রাখা ঠিক নয়। এ নিয়ে কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
মামলার বাদী আলহাজ্ব মো. আকাজ উদ্দিন বলেন, “ঘটনার দিন তারাবির নামাজ শেষে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য আলোচনা করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আসামিরা উত্তেজিত হয়ে আমাকে গালিগালাজ করে এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করে।”
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মারধরের সময় তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও দুইজনকেও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
এ ঘটনায় আলহাজ্ব মো. আকাজ উদ্দিন বাদী হয়ে মো. জুয়েল মণ্ডল, মো. মিজানুর রহমান, মো. জিয়ারত রহমান ও মো. মামুনুর রশিদকে আসামি করে জয়পুরহাট আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৫, ৫০৬(২) ও ১১৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মসজিদের মতো পবিত্র জায়গাকে কেন্দ্র করে এমন বিরোধ হওয়া দুঃখজনক। সরকারি ভাতা পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই এলাকায় আলোচনা চলছিল।”
এ বিষয়ে কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে ইসলামি ফাউন্ডেশন -এর স্থানীয় প্রতিনিধি গোলাম রাব্বানী বলেন, “ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের ভাতা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে। তবে একটি ইউনিয়নে সীমিতসংখ্যক মসজিদ এই সুবিধা পেতে পারে। মসজিদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ স্থানীয়ভাবে সমাধান হওয়াই ভালো।”
মন্তব্য করুন