এম রাসেল আহমেদ
১১ মার্চ ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

বৃষ্টিতে পানির নিচে আলু ক্ষেত দিশেহারা জয়পুরহাটের কৃষক

অসময়ের টানা বৃষ্টিতে জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় আলুর ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মাঠজুড়ে জমে থাকা পানিতে অনেক জায়গায় আলু গাছ নষ্ট হয়ে গেছে, কোথাও আবার আলু তুলে স্তুপ করে রাখলেও বৃষ্টির পানিতে তা পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এদিকে বাজারে আলুর দাম ধস নামায় চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে আলুর জাত ভেদে প্রতি মণ মাত্র ১৫০ থেকে ২০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মণ আলু উৎপাদনে বীজ, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি মিলিয়ে কয়েকগুণ বেশি খরচ হয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকদের হাজিরার টাকাও উঠছে না বলে জানান কৃষকরা।
ক্ষেতলাল উপজেলার  কৃষক ফরহাদ হোসেন জানান, আমরা অনেক আশা নিয়ে আলু চাষ করি। কিন্তু এবার দাম এত কম যে আলু বিক্রি করে খরচও উঠছে না। উপরে আবার বৃষ্টিতে ক্ষেত ডুবে গেছে। আলু তুলে রাখলেও পচে যাওয়ার আশংকা রয়েছে । এখন আমরা কী করবো বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক তফিকুল ইসলাম জানান,
“কোল্ড স্টোরেজে আলু রাখতে গেলেও বিপদ। প্রতি মণ আলু রাখার ভাড়া ৪০০ টাকার বেশি। অথচ বাজারে আলুর দাম মাত্র ১৫০–২০০ টাকা। তাহলে আমরা কীভাবে স্টোরেজ ভাড়া দেবো?”
কৃষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর আলুর ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় তারা ক্ষতির মুখে পড়লেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয় না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কৃষকদের দাবি, কৃষি বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রায়ই নানা আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কৃষকের দুঃখ-দুর্দশা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায় না।
পরিবেশ কর্মী ও সাংবাদিক রাসেল আহমেদ বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পেরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশেও কৃষকদের নিয়ে যেন এক ধরনের তামাশাই চলে আসছে। কৃষি নির্ভর দেশের কৃষকরাই যখন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তখন সেই তামাশার শেষ কোথায় এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে কৃষক সমাজে। কৃষকদের দাবি, আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কোল্ড স্টোরেজ ভাড়া কমানো এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষকই আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে ।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাদেকুল ইসলাম বলেন, কৃষকদের আলু তোলা এখন শেষ পর্যায়ে চলছে । বৃষ্টি হওয়া সাভাবিক বিষয়।  আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি আলুর  জমির পানি দ্রুত নিস্কাশন করতে।  ক্ষতির সম্ভাবনা খুব কম।
Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জয়পুরহাট জেলা প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন, সভাপতি রফিক-সম্পাদক রেজা

আবারও রাজশাহী বিভাগীয় স্কেটিং প্রতিযোগীতায় চ্যাম্পিয়ন বগুড়া জেলা

ক্ষেতলালে ধানক্ষেত থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার

পুলিশকে হুমকি দিচ্ছে কিডনি পাচারকারী নুরনবী

জয়পুরহাটে খাল রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন

জয়পুরহাটের কাচাকুলে শেষ বিদায়ের প্রস্তুতিতে একদল নিবেদিত মানুষ

ডিউটিতে চিকিৎসক অনুপস্থিত, হাসপাতালে চিকিৎসা না পেয়ে শিক্ষিকার  মৃত্যু

শুভ আকন্দ–জ্যাকলিন কাব্যের নতুন জুটি, আসছে ‘ওরে মন’

জয়পুরহাটে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর বিক্রির অভিযোগ স্থানীয়দের

কালাইয়ে মাদক বিক্রিতে বাধা, পথচারীকে কুপিয়ে জখম

১০

জয়পুরহাটে জ্বালানি সংকট: পাম্পে পাম্পে ঘুরেও মিলছে না তেল

১১

ক্ষেতলাল পৌর প্রশাসক পদে দোয়া চাইলেন আজাদুল ইসলাম আজাদ

১২

রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আলোচনার শীর্ষে মোকাদ্দেস হোসেন সোহান

১৩

পূর্ব শত্রুতার জেরে জয়পুরহাটে ৪০টি ফলজ গাছ কাটার অভিযোগ

১৪

রায়গঞ্জ উপজেলা বাসী কে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মোকাদ্দেস হোসেন সোহান

১৫

সরকার গঠনে এবারের ঈদে বিএনপির বাড়তি উৎসব

১৬

বগুড়ার ফাঁপোর ইউনিয়নে বিএনপি নেতা ইলিয়াস ব্যাপারীর ঈদ সামগ্রী বিতরণ

১৭

সোনাখাড়া ইউনিয়ন বাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী   রনি তালুকদার

১৮

রায়গঞ্জ উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ খান প্যারিসের পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ

১৯

কর্মী-সমর্থকদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করলেন ঢাবির সাবেক ছাত্রনেতা আব্বাস আলী

২০